কৃষি প্রতিক্ষণ ডেস্ক: কৃষিতে হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে আঁকড়ে রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশের মানুষ। আয়তন আর জনসংখ্যার হিসাবে আফ্রিকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। এ মহাদেশের বেশির ভাগ মানুষের বাস গ্রামে। কৃষিই তাদের প্রধান ও আদি পেশা।
আফ্রিকার কৃষির রয়েছে হাজার বছরের গর্বিত ইতিহাস। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আফ্রিকার কৃষির বদলে খনিজ সম্পদ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। একসময়ে কৃষি সমৃদ্ধ আফ্রিকানরা তাদের নিজেদের মানুষের মুখে পর্যাপ্ত খাবার তুলে দিতে ব্যর্থ হয়।
তবে এখন বদলাতে শুরু করেছে আফ্রিকার কৃষি খাত। আফ্রিকার দেশগুলোর কার্যকর কৃষিনীতি আর পর্যাপ্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশী সহায়তানির্ভরতা কমিয়ে আনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ছোয়ায় গতি ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের সামগ্রিক কৃষি খাত।
মুলত আফ্রিকা মহাদেশের কৃষির সূচনা হয় সাহারা মরুভূমি থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ খ্রিস্টাব্দে। তখন সাহারা মরুভূমির কৃষকরা ভুট্টা, জব, গম আবাদ শুরু করে। পরবর্তীতে সাহারা থেকে এ কৃষিকাজ নীল নদের অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়ে। আর এ নীল নদের অববাহিকায় আফ্রিকার কৃষি উৎপাদন ভিন্ন মাত্রা পায়।
ঔপনিবেশিক আমলে আফ্রিকার কৃষিতে পর্তুগাল, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেদের প্রয়োজনে আফ্রিকার কৃষির উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আফ্রিকার দেশগুলো একের পর এক স্বাধীন হতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই তখন কৃষিতে কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ দিতে পারেনি আফ্রিকার দেশগুলো।
আশি-নব্বইয়ের দশক থেকে আফ্রিকার কৃষি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। আর এ এক্ষেত্রে কেনিয়া, নাইজেরিয়া, জাম্বিয়া, লাইবেরিয়া, মোজাম্বিক অর্জন করে অভাবনীয় সাফল্য।
আফ্রিকার বড় একটি এলাকা মরুভূমিপ্রবণ। এসব এলাকায় পানি সংকট লেগেই থাকে। আর এটা আফ্রিকার কৃষির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে নদী অববাহিকায় আফ্রিকার কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীল নদ।
১৯৯০-২০০৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার কৃষিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বিশ্বব্যাংক। তবে চলতি শতকের প্রথম দশকেই প্রতিষ্ঠানটি আফ্রিকার কৃষি খাতে সহায়তা সীমিত করেছে।
আফ্রিকার দেশগুলো কৃষি খাতে কার্যকর নীতি প্রণয়নে জোর দেয়ায় ২০০২ সালে গৃহীত হয় ‘কম্প্রিহেনসিভ আফ্রিকা এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’। ২০০৩ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের জাতীয় বাজেটের ১০ শতাংশ কৃষিতে বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়। উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারি পর্যায়ে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বেসরকারি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায় আফ্রিকার দেশগুলো।
কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে কেনিয়া। কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে আফ্রিকার কয়েকটি দেশ দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। বর্তমানে চীন-ভারতসহ কয়েকটি দেশ আফ্রিকায় বড় পরিসরে কৃষি উৎপাদন শুরু করেছে।