
কৃষি প্রতিক্ষণ ডেস্ক: আমাদের শরীরের সামান্য ওজন বৃদ্ধি হলেই মাথায় চিন্তার ভাজ পড়ে যায়। ওজন বৃদ্ধি শুধুমাত্র সৌন্দর্যকেই প্রাভাবিত করে না, বরং স্বাস্থ্যেও এর কুপ্রভাব পড়ে। ওজন বৃদ্ধির ফলে নানা ক্ষেত্রে রোগের আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই সকলে ওজন কমানোর চেষ্টা করে থাকেন ।
আপনিও এমন কোনও চিন্তা ভাবনা করে থাকলে ওজম ও পেটে জমে থাকা মেদ কমানোর জন্য তিসি খেতে পারেন।
পুষ্টিগুণে ভরপুর তিসিতে রয়েছে
প্রোটিন, ফাইবার হেল্দি ফ্যাট, ক্যালশিয়াম ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ । এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আবার এতে উপস্থিত ফাইবার পাচন শক্তি ও মেটাবলিজমকে উন্নত করে। কাঁচা আমের চাটনি, ওটমিলে তিসি ব্যবহার করা যেতে পারে। তা ছাড়াও শুকনো করে ভাজা তিসি বা তিসির পাওডারও ব্যবহার করলে ওজন কমানো যেতে পারে।
ওজন কম করতে যে ভাবে তিসি সাহায্য করে
তিসির বীজে উপস্থিত ডায়েটারি ফাইবার ওজন কমাতে সাহায্য করে। তিসির বীজে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে, নিয়মিত ৩০ গ্রাম ফাইবার খেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ ঝরানো যায়। এ ছাড়াও উচ্চ ফাইবার যুক্ত ফ্যাট শুধুমাত্র যে ওজন কম করে তা-ই নয়, বরং টাইপ ২ ডায়বিটিজ ও হৃদরোগের ঝুঁকিকেও কম করতে পারে। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী ফাইবার ও শরীরের মেদের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ অধিক ফাইবার যুক্ত খাবার-দাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
ওজন কম করার সমস্ত কার্যকরী উপায়ের মধ্যে অন্যতম হল তিসির বীজের ব্যবহার। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ গলাতে সাহায্য করতে পারে। দ্রুত ওজন কম করতে চাইলে নিয়মিত তিসির বীজ খেতে হবে। এর সাহায্যে ১০ দিনে ৫ কেজি ওজন কম করতে পারবেন।
তিসির বীজে উপস্থিত ঔষধী গুণ কী ভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে জেনে নিন।
১. তিসিতে উপস্থিত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যালস বার্ধক্যের লক্ষণ কম করে। এর ফলে ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয় না এবং ত্বক টান টান থাকেন। ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে তিসি।
২. তিসির বীজে আল্ফা লাইনোইক অ্যাসিড পাওয়া যায়। অথ্রাইটিস, অ্যাস্থমা, ডায়বিটিজ ও ক্যান্সারের মোকাবিলায় এটি সাহায্য করে। বিশেষক কোলোন ক্যান্সারের মোকাবিলায় তিসির বীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. নির্দিষ্ট পরিমাণে তিসি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশ সুস্থ ও কার্যকরী থাকে।
৪. এতে উপস্থিত লাইগন অন্ত্রে সক্রিয় থেকে এমন একটি উপাদান তৈরি করে যা ফিমেল হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. তিসির তেল দিয়ে মালিশ করলে
শরীরের অঙ্গ সুস্থ থাকে এবং ভালো ভাবে কাজ করে। এই তেল দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।
৬. নিরামিশাষি ব্যক্তিদের জন্য তিসি ওমেগা ৩-এর উৎকৃষ্ট উৎস।
৭. তিসিতে উপস্থিত ওমেগা ৩ রক্ত প্রবাহ উন্নত করে। এটি রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কম হয়। রক্তে উপস্থিত কোলেস্টেরল কম করসাহায্য করে তিসির বীজ।
তথ্য সুত্র: হিন্দুস্তান টাইমস/ কৃষি প্রতিক্ষণ/ এম ইসলাম