
কৃষি প্রতিক্ষণ রিপোর্ট: চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার এক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় মেঘনার নীলকমল চরে। যেখানে বছরে একবার ফসল ফলানোই কল্পনাতিত ছিল এই বালুচরের জমিতে। পরিকল্পিত চাষাবাদে নীলকমল চরের রুপ পাল্টে সবুজ শ্যামল রুপ দিয়ে অভুতপূর্ব এক কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মো. সালাউদ্দিন সর্দার। তিনি নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান
নীলকমল চরে এখন সারা বছরই ফলছে হরেক রকমের শাক সবজি ও ফলমুল। ঝিলে চাষ হচ্ছে মাছ। পালন করা হচ্ছে হাস। বালুচরের এ কৃষি বিপ্লবে চরাঞ্চলের মানুষের হয়েছে কর্মসংস্থানের।

মেঘনার এই চরে যাওয়ার একমাত্র উপায় জলযান। বর্ষাকালে পানির নিচে থাকে এই চরের অধিকাংশ জমি। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি উদ্যোক্তা সালাউদ্দিনের উদ্যোগে বদলে গেছে এই বালু চরের চিরায়িত সে চিত্র এখন সারা বছরই এখানে চাষাবাদ চলছে। চরের বিরাট একটি অংশে দেখা মিলছে ফসলের সমারোহ। মাটি কেটে উঁচু করে গড়ে তোলা হয়েছে কৃষি খামার। বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত খামারের কর্মীরা।
কৃষি উদ্যোক্তা সালাউদ্দিন জানালেন, নীলকমল চর বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যায়। শুধুমাত্র শীতকালে চাষাবাদের সুযোগ পাওয়া যেত। আমি সেই প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতিকে বদলে দিতেই মুলত কাজ শুরু করি।
তিনি জানান, আমার খামারের সব ফসলই ক্ষতিকর কীটনাশকমুক্ত। বর্তমানে এখানে আম, কাঁঠাল, তরমুজ, কলা, শসা, করলা, লাউ, বেগুন, চালকুমড়ো, বরবটি, ঝিঙে, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে। ঝিলে মাছ চাষ করা হচ্ছে।
তিনি জানান এ খামারের শুরুটা হয় তিন বছর আগে। পৈত্রিক জমিতে মাটি কেটে প্রথমে মাছ চাষ শুরু করেন। এতে সফলতা পেয়ে ১২০ একর জমির ৭০ একরে চাষাবাদ করেন বিভিন্ন শাক-সবজি ও ফলের। অল্প সময়ে সফলতা পাওয়ায় বাড়ান বিনিয়োগের পরিমাণ। বর্তমানে ১২০ একর জমিতে বিনিয়োগ করেছেন প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
তিনি জানালেন কাজের শুরুর দিকে অনেকেই আমাকে নিরুৎসাহিত করেছে। আমি মনোবল না হারিয়ে কাজ চালিয়ে যাই। আজ আমার এই সফলতায় তারাই মুগ্ধ। বর্তমানে অনেকেই আসছেন আমার খামার দেখতে। এমন খামার গড়ে তুলতে চাচ্ছেন পরামর্শ। আমিও সানন্দে তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
সালাউদ্দিন জানান, তার এই কৃষিখামারে এখন স্থায়ীভাবে কাজ করছেন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক। অস্থায়ীভাবে আছেন ৪০ জন।
১২০ একর জায়গার সমন্বিত কৃষি খামারের বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, শুরুর দিকে আমরা সন্দিহান ছিলাম এ কৃষি খামারের সফলতা নিয়ে। এ চরে আমরা কোনোদিন সারা বছর ফসল ফলতে দেখি নাই। কেউ চিন্তাও করে নাই। তার সফলতায় আমরাও এভাবে চাষাবাদ করতে চাচ্ছি।
বর্তমানে এই কৃষি খামার থেকে গড়ে প্রতিদিন ২০-২৫ মণ করলা, ৭০০-৮০০টি লাউ, ৩০-৩৫ মণ শসা, ২-৩ মণ বরবটি, ৫-৭ মন ঢেঁড়শ তোলা হয়।
সালাউদ্দিন সর্দার বলেন, আমার এই কৃষি খামারের যেকোনো প্রয়োজনে ইন্টারনেটের সহায়তায় নিয়েছি। এই কৃষি খামার থেকে প্রতিদিন পাঁচ লাখ টাকা আয় করার লক্ষ্য আমার।
চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জালাল উদ্দিন বলেন, মেঘনার নীলকমল চরে সমন্বিত চাষাবাদ করছেন সালাউদ্দিন। তাকে দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেকে।
তিনি আরও বলেন, জায়গাটি দুর্গম হওয়ায় ও আমাদের জনবল কম থাকায় এ খামারের প্রয়োজনীয় সহায়তায় কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে। তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি সহায়তার চেষ্টা করব আমরা।
কৃষি প্রতিক্ষণ/ এম ইসলাম