
কৃষি প্রতিক্ষণ ডেস্ক: বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ মহুয়া। বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে দন্ডায়মান মহুয়া। গাছটি ২০১১ সালে কাঠুরিয়ার কুঠারের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল। ডালপালা কেটে গাছটি ন্যাড়া করে দিলে বগুড়ার সাংবাদিকরা জাতীয় দৈনিকে মহুয়া গাছ কেটে ফেলা সংবাদ পরিবেশন করার পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইফতেখারুল ইসলাম খান এর নজরে আছে। তিনি তাৎক্ষণিক গাছটি না কাটার নির্দেশ দেন।
বিলুপ্ত প্রায় এ মহুয়া গাছ কাটার জন্য জেলা প্রশাসনের কয়েজনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। পরে তিনি বদলী হয়ে গেলে সেই তদন্তের রিপোর্ট আর আলোর মুখ দেখেনি। সংবাদ পরিবেশন হওয়ার পর কাঠুরিয়াদের হাত থেকে রক্ষা পায় ।
সেই মহুয়া গাছের ঝাকড়া ডাল-পালা এখন সোভা বর্ধন করছে। মহুয়া গাছটিতে এ বছরের জুন জুলাই মাসে ফুল ফুটেছিল। মৌমাছি মধু আহরণ করছে। তবে কাঠুরিয়াদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এ বিরল প্রজতির গাছের ছায়াতলে দাঁড়াবার জায়গা নেই। গাছে কোল ঘেঁসে রাস্তা । আর এক পাশ দিয়ে একটি রেণ্টুরেন্ট মহুয়া গাছটিকে কোনঠাসা করে ফেলেছে।
মহুয়া গাছ ভারতের উপ-জাতি সম্প্রদায়ের জন্য একটি প্রকৃতিক পুরস্কার।গরমের তপ্ত দুপুরে টোপা টোপা ফলের ভরে অলংকৃত গাছটি খুব একটা চোখে পড়ে না।এর ফুলের নির্যাসে মাদকতা আছে।
স্থান ভেদে এক মহুয়া, মাধুকা, সোভা,মধুডা ইত্যাদি নামে পরিচিত। এর বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়।এর নির্যস সাঁওতালদের কাছে প্রিয় পানীয়। এর বীজ থেকে নানা রোগের চিকিৎসায় বহুকাল ধরে ব্যাহৃত হয়ে আসছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল জানান, তারা বিলুপ্তির পথে মহুয়া, পারুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গছের চারা তৈরী করে তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন যে কেই গাছ লাগাতে পারে কিন্ত গাছ কাটতে গেলে তার জন বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে।
বিলুপ্ত এ সব গাছ তাদের নার্সারীতে তৈরী করার উদ্যোগ নিয়েছেণ। বাংলাদেশে কি পরিমান মহুয়া গাছ আছে তার পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই।
বগুড়া জেলা প্রাশাসের কার্যালয়ে বিরল এ গাছ এখন শোভা বর্ধন করে চলেছে। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এলে জুন – জুলাই মাসে ফুলের মাদতার গন্ধ পায়। এর শীতল ছায়ায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নেয়
এ মহুয়া গাছ নিয়ে অনেক গান ও কযিতা রচিত হয়েছে।
মহুয়ার ফুলের সৌন্দর্যকে নানা ভাবে বর্ননা দিয়ে অনেক শিল্পী ও কবি ।প্রখ্যাত গায়িকা আশাভোষলে গান গেয়েছেন, “মহুয়ায় মহুয়ায় জমেছে আজ মৌ গো, ও কনের দেখা মেটে যে ঐ , সোনা রং লেগেছে ঐ ,পালকিতে চলেছে কার বৌ গো…মহুয়ায় জমেছে আজ মৌ গো..।” কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরূল ইসলামসহ অনেক কবি মহুয়াকে নানা ভাবে বর্ণনা দেয়েছেন।
সুত্র: বাসস/ কৃষি প্রতিক্ষণ/ এম ইসলাম