
লালশাকের ক্ষেত পরিদর্শনে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান সাথে কৃষক মনসের আলী
কৃষি প্রতিক্ষণ রিপোর্টঃ লালশাক আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। এই শাক আগে শুধুমাত্র শীতকালে পাওয়া গেলেও বর্তমানে এটি সারাবছরই পাওয়া যায়। এর রং লাল এবং রান্নার পর এটি থেকে লাল রং হওয়ার কারণে শিশুদের কাছে লালশাক খুবই প্রিয়। আর এ শাকের রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুন।
বগুড়ার জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের কাছে লালশাক এখন একটি বোনাস ফসল হিসেবে পরিচিত। মাত্র ২০-২৫ দিনের এ ফসল অন্য ফসলের মাঝে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেন এখানকার কৃষকরা।
উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের রহবল উত্তরপাড়ার কৃষক মোঃ মনসের আলী বলেন, আগাম পাট কাটার পর লালশাকের বীজ বপন করি। বীজ, সার, বালাইনাশক মিলে ১৪ শতক জমিতে ৯৮০ টাকা খরচ হয়। জমিতেই ২১ দিন বয়সের লালশাক ৬০০০ টাকায় ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। এটা আমার কাছে একটা বোনাস ফসল। এরপর এই জমিতে আগাম ফুলকপি হবে এরপর হবে আলু তারপর আবার করলা হবে।
রহবল ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, দিন দিন ফসলের জমি কমে যাচ্ছে। এ স্বল্প জমিকে ব্যবহার করে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর শাক-সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
লালশাকের পুষ্টিগুনঃ
প্রতি ১০০ গ্রাম লালশাকে ক্যালসিয়াম ৩৭৪ মিলিগ্রাম, শর্করা ৪.৯৬ মিলিগ্রাম, প্রোটিন ৫.৩৪ মিলিগ্রাম, স্নেহ ০.১৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.১০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.১৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৪২.৯০ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১১.৯৪ মিলিগ্রাম, অন্যান্য খনিজ ১.০৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৩ কিলোক্যালরি পাওয়া যায়।
কৃষি প্রতিক্ষণ/ এম ইসলাম